Thursday , April 18 2024

‘নির্বাচনী বন্ড অসাংবিধানিক’, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ধাক্কা খেল মোদী সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে লোকসভা ভোটের আগে দিয়ে ধাক্কা খেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, বেনামি নির্বাচনী বন্ড অসাংবিধানিক।

এই বন্ড তথ্যের অধিকার জানার আইন লঙ্ঘন করে। রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন সম্পর্কে ভোটারদের জানার অধিকার আছে। সে অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ায় মোদী সরকারের জারি করা নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প অসাংবিধানিক।

বিবিসি জানায়, নির্বাচনে কালো অর্থ ঢালা রুখে দাঁড়িয়ে আরও স্বচ্ছতা আনতেই ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এই বন্ড প্রকল্প চালু করেছিল। কিন্তু অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে বিরোধীরা এই প্রকল্পকে চ্যালেঞ্জ জানায়।

গত বছর নভেম্বরেই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংরক্ষিত রেখেছিল এ মামলার রায়। বৃহস্পতিবার সেই রায়ই শোনাল আদালত।

২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকার জানিয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক অনুদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে নগদ অর্থের পরিবর্তে নির্বাচনী বন্ড চালু করছে তারা।

এ প্রকল্পের আওতায় যে কোনও ভারতীয় নাগরিকের নির্বাচনী বন্ড কেনার বিধান রাখা হয়। একাও বন্ড কেনার নিয়ম রাখা হয়। যৌথভাবে বন্ড কেনার নিয়মও রাখা হয় প্রকল্পে। ভারতের বিভিন্ন সংস্থা নির্বাচনী বন্ড কিনে রাজনৈতিক দলগুলোকে আর্থিক সহায়তা করতে পারত।

নির্বাচনী বন্ড বা ইলেক্টোরাল বন্ডের নিয়ম অনুয়ায়ী, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনও রাজনৈতিক দলকে আর্থিক অনুদান দিতে চাইলে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া থেকে ইলেক্টোরাল বন্ড কিনে পছন্দের রাজনৈতিক দলকে দিতে পারেন। অনুদানপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলগুলো ১৫ দিনের মধ্যে এসবিআই-এর শাখার গিয়ে সেই বন্ড ভাঙিয়ে নগদ করতে পারে। তবে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান অর্থ অনুদান দিচ্ছে তা গোপন রাখা হয় এতে।

বেনামী হওয়ার কারণে নির্বাচনী বন্ড স্বচ্ছ নয় বলে অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। পরিচয় গোপন থাকার কারণে কে অনুদান দিচ্ছে তা জানা যায় না। তাই সেক্ষেত্রে অর্থের উৎসের বিষয়টি অজানাই থেকে যায়। কালো অর্থ নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

কেবল তাই নয়, কোন কর্পোরেট সংস্থা কাকে ভোটে সাহায্য করছে, তার বিনিময়ে সেই সংস্থা ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে কী সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে তাও জানার উপায় নেই বলে অভিযোগ বিরোধীদের। এই বিষয়গুলোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই মামলা গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে।

সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলেছে, বেনামি নির্বাচনী বন্ড দেওয়া হলে তাতে তথ্য জানার অধিকার আইন এবং সংবিধানের ১৯ (১) (এ) ধারা লঙ্ঘিত হবে। সংবিধানের ১৯ (১) (এ) ধারায় সব নাগরিককে বাকস্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প সংবিধানের ১৯ (১) (এ) ধারার বিরোধী। তাই যেসব ব্যাংক নির্বাচনী বন্ড জারি করে, তাদেরকে অবিলম্বে এই বন্ড জারি করা বন্ধ করতে হবে।

আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে নিজেদের ওয়েবসাইটে নির্বাচন কমিশনকে সেই তথ্য প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। অর্থাৎ, আদালতের রায় অনুযায়ী, এখন থেকে নির্বাচনী বন্ড আর গোপন থাকবে না। জনগণ জানতে পারবে কে কোন দলকে অর্থায়ন করেছে।

About somoyer kagoj

Check Also

ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। এ হামলার পেছনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *