Friday , April 19 2024

ইরানের নোবেল বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে আরও ১৫ মাসের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নোবেল বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে আরও ১৫ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটির বিপ্লবী আদালত শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই নারীকে এই কারাদণ্ড দেয়। তিনি অবশ্য আগে থেকেই কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী আদালত শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে অতিরিক্ত ১৫ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। নার্গিস মোহাম্মদী ইতোমধ্যে একাধিক মামলায় কারাগারে ১২ বছরের সাজা ভোগ করেছেন।

বিবিসি বলছে, কারাগারে থাকা অবস্থায়ই তার বিরুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তার পরিবার এই রায়ের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ২০২১ সালের মার্চ থেকে এনিয়ে তাকে পঞ্চম মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হলো।

সর্বশেষ এই বিচারের ঘটনায় অবশ্য নার্গিস মোহাম্মদী উপস্থিত ছিলেন না এবং তার অনুপস্থিতিতেই এই রায় জারি করা হয়েছে।

নার্গিস মোহাম্মদী কয়েক দশক ধরে ইরানে মানবাধিকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তার এই কর্মকাণ্ডের কারণে দুই দশক ধরে কারাগারে এবং বাইরে রয়েছেন। তাকে ১৩ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত এই ১৫ মাস কারাগারে থাকার পাশাপাশি নতুন সাজার অধীনে নার্গিস মোহাম্মদীকে তেহরানের বাইরে দুই বছর নির্বাসনে কাটানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো- তাকে কুখ্যাত এভিন কারাগার থেকে সরিয়ে নিতে হবে যেখানে তাকে বর্তমানে বন্দি রাখা হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মোহাম্মদীকে দুই বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হবে এবং একই সময়কালের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ নেওয়া ও নিজের কাছে মোবাইল ফোন রাখা থেকেও নিষিদ্ধ করা হবে।

৫১ বছর বয়সী এই মানবাধিকার কর্মী অসংখ্য হুমকি এবং গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও তার কাজ চালিয়ে গেছেন। ইরানে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তিনি ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।

নোবেল জিতে যেভাবে ইরানের ক্ষমতাসীনদের জবাব দিলেন নার্গিস
মাথায় হিজাব না দেওয়ায় ইরানে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
তার সন্তানরা গত বছরের অক্টোবরে অসলোর সিটি হলে তার পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করে। যদিও তাদের সন্তানরাই অনেক বছর ধরে তাদের মাকে দেখেনি। সেসময় সন্তানরা কারাগার থেকে পাঠানো তার মায়ের একটি বক্তৃতা পড়ে শোনান।

সেখানে মোহাম্মদী ইরানের ‘অত্যাচারী’ সরকারের নিন্দা করেন। সেসময় তিনি বলেন, ‘আমি কারাগারের উঁচু, ঠান্ডা দেয়ালের আড়াল থেকে এই বার্তাটি লিখছি। ইরানের জনগণ, অধ্যবসায়ের সাথে, দমন-পীড়ন ও কর্তৃত্ববাদকে জয় করবে।’

About somoyer kagoj

Check Also

ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। এ হামলার পেছনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *