Sunday , April 14 2024

করোনা মহামারির পর সম্পদ দ্বিগুণ হয়েছে যে শীর্ষ ৫ ধনীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

করোনা মহামারি শুরুর বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত গত চার বছরে বিশ্বের অনেক ধনী ব্যক্তির সম্পদ বেড়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমানে শীর্ষে থাকা ৫ জন ধনীর সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ।

এরা হলেন ইলন মাস্ক, বেরনার্ড আরনল্ট, জেফ বেজোস, জেরি অ্যালিসন এবং মার্ক জুকারবার্গ। সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত শহর দাভোসে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোট ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বরাত দিয়ে এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থাগুলোর জোট অক্সফাম জানিয়েছে, ২০২০ সালে যৌথভাবে এই ৫ জনের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার; আর বর্তমানে এই অঙ্ক পৌঁছেছে ৮৬ হাজার ৯০০ ডলারে। অর্থাৎ শতাংশ হিসেবে গত চার বছরে এই পাঁচজনের সম্পদ বেড়েছে ১১৪ শতাংশ।

তবে কেবল এই ৫ শীর্ষ ধনী নয়। সম্পদ বেড়েছে গড়ে প্রায় সব শত কোটি ডলারের মালিকদের (বিলিওনিয়ার)। এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন খাতের প্রতি ১০টি শীর্ষ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের ৭টিরই হয় মালিক, নয়তো বেশিরভাগ শেয়ারের অধিকারী কোনো না কোনো বিলিওনিয়ার।

২০২০ সালের পর গত চার বছরে আয় বেড়েছে বিশ্বের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোরও। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বরাত দিয়ে অক্সফাম জানিয়েছে, গত চার বছরে বিশ্বের শীর্ষ ১৪৮টি কোম্পানির গড় মুনাফা ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার।

অক্সফামের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার জার্মানির সরকারি সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে জানান, বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের দাপট ও অর্থনীতিতে তাদের একচেটিয়া বাণিজ্য, কর ব্যবস্থার অনিয়ম ও করফাঁকির সুযোগ একদিকে যেমন বিলিওনিয়ারদের সম্পদ বৃদ্ধি করছে, তেমনি অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে প্রকট করে তুলছে অসাম্য।

ডয়েচে ভেলেকে অমিতাভ বিহার বলেন, ‘আর্থিক অসাম্য কোনো দুর্ঘটনা বা নিয়তি নির্ধারিত ব্যাপার নয়, বরং এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফসল— যা নিয়ন্ত্রণ করে আসলে কর্পোরেট শক্তি। এই ব্যবস্থায় কর্পোরেটদের তথাকথিত বিভিন্ন নিয়ম-নীতি এবং কৌশলের জেরে মানুষের পকেট হালকা হয়, আর ভারি হয় তাদের পকেট।’

ডয়েচে ভেলেকে অক্সফামের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী আরও জানান, কর্পোরেটদের দৌরাত্ম্যে বিশ্বের প্রায় সব দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা চাপে রয়েছেন এবং দিনকে দিন বাড়ছে এই চাপ।

‘অধিকাংশ দেশে মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন, বাজারে নিজেদের পণ্য ও পরিষেবা বিক্রি করতে গিয়ে কর্পোরেটদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন, বাজারে টিকে থাকার জন্য আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন; এমনকি সরকারি সহায়তারও একটি উল্লেখযোগ্য অংশে ভাগ বসান কর্পোরেটরা।’

গত চার বছরে বিশ্বের ৫০০ কোটি মানুষ, শতকরা হিসেবে যারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ, নিজেদের সম্পদের ২ শতাংশ খুইয়েছেন উল্লেখ করে অমিতাভ বলেন, ‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন ও কর্পোরেট দৌরাত্ম্য থামানো ব্যতীত বিশ্ব থেকে আর্থিক অসাম্য দূর করা সম্ভব নয়।’

About somoyer kagoj

Check Also

ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। এ হামলার পেছনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *