Saturday , April 13 2024

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েছে দখলদার ইসরায়েলিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দখলদার ইসরায়েলিদের একটি দল আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েছে। ইসরায়েলি পুলিশের পাহারায় তারা জোর করে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে কাছাকাছি একটি স্থানে তালমুদিক প্রার্থনায় অংশ নেয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ডানপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা প্রায়ই জোর করে পূর্ব জেরুজালেমের কেন্দ্রে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। গত বছর ৪৮ হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে। বিষয়টি তত্ত্বাবধানকারী একটি ধর্মীয় প্রশাসন এ তথ্য জানিয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরেও আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ার অভিযোগ ওঠে কয়েক ডজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে। ইসরায়েলি পুলিশি পাহারায়ই এসব ঘটনা ঘটছে।

পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেবরনে ১৯৯০ সালে ইব্রাহিমি মসজিদে যা ঘটেছিল আল-আকসা মসজিদেরও একই পরিণতি চায় ইসরায়েল। এমনটাই আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। জেরুজালেম হলো ইহুদি ও ফিলিস্তিনিদের ১০০ বছরের সহিংসতার ইতিহাসের সাক্ষী। কেন আল-আকসাকে ঘিরে বাড়ছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি দ্বন্দ্ব কিংবা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে আল-আকসা? এ ইস্যু নিয়ে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

মুসলিম ও ইহুদি, দুই ধর্মাবলম্বীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত আল-আকসা মসজিদ। দুই ধর্মাবলম্বীই আল-আকসাকে নিজেদের বলে দাবি করেন।

মুসলিমদের জন্য তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান এটি। মসজিদ চত্বরটি মুসলিমদের কাছে হারাম-আল-শরীফ হিসেবেও পরিচিত। অন্যদিকে, ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা আল-আকসা মসজিদ ও তার আশপাশের অংশকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাদের জন্য এটি বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থান।

১৯৬৭ সালে ছয়দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ আল-আকসা মসজিদ ঘিরে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। ইসরায়েল এ যুদ্ধে জয়ী হয়। তারা গাজা ও সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয়, যা ১৯৪৮ সাল থেকে মিশরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে, পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরও তারা দখল করে নেয় জর্ডানের কাছ থেকে।

যুদ্ধের আগ পর্যন্ত জর্ডানের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এর তত্ত্বাবধায়ক ছিল। এরপর ইসলামি ওয়াকফ ট্রাস্টের হাতে মসজিদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। শুধু মুসলমানরাই আল-আকসার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। তবে ইহুদিরা পশ্চিম দেওয়ালে প্রার্থনার জন্য অংশ নেন।

পুরো মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল, জর্ডান এবং মুসলিম ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সম্মত হওয়া ব্যবস্থাকে বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষা করে আসছে ইসরায়েলিরা। তারা সেখানে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, সবার জন্য এ পবিত্র স্থানটি উন্মুক্ত করার দাবি জানায় ইসরায়েলিরা। এতেই শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব।

ফিলিস্তিনিদের শঙ্কা, ইসরায়েলি বাহিনী আগ্রাসন চালিয়ে স্থানীয় মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে বিভক্তি ও দ্বন্দ্ব চায়। যেটি ১৯৯০ সালে ঘটানো হয়েছিল হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে।

About somoyer kagoj

Check Also

ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। এ হামলার পেছনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *