Sunday , April 14 2024

কেরুর মদে লাভের মুখ দেখলেও গুনতে হচ্ছে চিনিতে লোকসান

শামীম রেজা :


দেশের সব চিনিকল টানা লোকসানের মুখ দেখলেও বিগত কয়েক বছর ধরে মুনাফা করে এসেছে এশিয়া মহাদেশের সবথেকে বড় চিনিকল কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। বাস্তবিক পক্ষে চিনিকল হলেও কেরুর মুনাফার মূল জোগান আসে একমাত্র মদ বিক্রি থেকে। তবে মদ থেকে মুনাফা আসলেও বছরের পর বছর চিনিতে কেরুর লোকসান হচ্ছে তার কারণ কী! এসব বিষয় নিয়ে জনসাধারণের মাঝে নানান জল্পনার কল্পনা লেগেই আছে। দেশের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশনের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৯ লাখ ৬৭ হাজার প্রুফ লিটার মদ উৎপাদন করেছে। মদ বিক্রি করে দেশের সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি আয় হয়েছে ৪৩৯ কোটি টাকা। এখান থেকে রাজস্ব জমা দেয়ার পর কেরুর নিট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫২ কোটি টাকা।এর আগে, ২০২১-২২ অর্থবছরে কেরু ৩৬৮ কোটি টাকার মদ বিক্রি করেছে, যেখান থেকে রাজস্ব জমা দিয়ে ১৩২ কোটি টাকা লাভ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রকৃতপক্ষে সময় যত এগুচ্ছে মদে কেরুর লাভও ততো বাড়ছে। মদ থেকে লাভ আসা শুরু করায় কেরুর মদের উৎপাদন আগের থেকে অনেক বেশি বাড়িয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেরু ৫৯ লাখ ৬৭ হাজার প্রুফ লিটার মদ উৎপাদন করেছে। যার মধ্যে ১৬ লাখ ৪২ হাজার প্রুফ লিটার বিলেতি, আর ৩২ লাখ ৮০ হাজার প্রুফ লিটার বাংলা মদ। বাকিটা বিভিন্ন ক্যাটাগরির। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, দেশের বৃহত্তম এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির ১ কোটি লিটার পর্যন্ত মদ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে কেরু মোট সক্ষমতার অর্ধেক কাজে লাগায়। দিনের পর দিন মদের চাহিদা বাড়ায় এ সক্ষমতা আরও প্রসারিত করার চিন্তাভাবনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির ডিস্টিলারি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক জানান,গত এক দশক থেকে মদে লাভের মুখ দেখে আসছে কেরু এন্ড কো:। প্রতি বছর লাভের পরিমাণ বাড়ছে। আগে কেরুর উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ শতাংশ কাজে লাগানো হলেও এখন তা বাড়িয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এটি আরও বাড়ানো হবে। এরই মধ্যে কেরুর উৎপাদন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বিলেতি মদ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অটোমেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে মদ উৎপাদন আরও প্রসারিত করতে তুরস্ক থেকে ব্রয়লার মেশিন আনা হয়েছে। সেটি প্রতিস্থাপনের পর মদ উৎপাদন আরও বাড়বে। এক দশক আগের হিসাব থেকে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৫টি সরকারি মিলে ১ লাখ ২৮ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল, যা ২০২২-২৩ সালে কমে ২১ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টনে নেমে আসে। অর্থাৎ আখের অভাবে এক দশকে চিনি উৎপাদন কমেছে ১ লাখ টনের বেশি। কেরুর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারমতে,একটা সময় মদ থেকেও কাঙ্ক্ষিত লাভ আসতো না। কিন্তু এখন যখন লাভ আসতে শুরু করেছে, তখন এ খাতে সামনে আর কোনো লোকসানের আশঙ্কা নেই।’ আর চিনিতে লোকসানের কারন হচ্ছে মিলটি পুরাতন ও কাঙ্ক্ষিত আখ না পাওয়া। তবে আশা করা যাচ্ছে সমনের মৌসুমে ভালো কিছু হবে। কেরু এন্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক(কৃষি) আশরাফুল আলম ভূইয়াঁ বলেন, যে হারে চিনির দাম বেড়েছে, কৃষকরা তার তুলনায় আখ চাষ করে আশানুরূপ লাভ করতে পারছেন না। কৃষক যে টাকায় আখ বিক্রি করছেন, তার থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে চিনি কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এমন বৈষম্যমূলক দাম নির্ধারণে একদিকে চিনিকলগুলো যেমনি স্থবির হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কৃষক আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।এদিকে চলতি মাসের ১৫ ডিসেম্বর আখ মাড়াই মৌসুম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই মৌসুমে ৬৫ হাজার ক্যান আখ মাড়াই করে প্রায় ৪ হাজার টন চিনি তৈরি করবে কতৃপক্ষ। এছাড়াও ৫৬ দিনে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ চিনি আরোহনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ।

About somoyer kagoj

Check Also

বাংলাদেশের মধ্যে “মেটলাইফ মোমিন এজেন্সি কুষ্টিয়া” প্রথম স্থান অর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের মধ্যে মেটলাইফ মোমিন এজেন্সি কুষ্টিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *