Sunday , April 14 2024

চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপক হারে বেড়েছে ডায়রিয়া  শিনিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগ

শামীম রেজা : 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডা-কাঁশি, নিউমোনিয়া,জ্বরসহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ মাঝে মধ্যে এতটাই বেশি হচ্ছে যে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সদের। দায়িত্বে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা বলছেন, দিনের পর দিন  আবহাওয়ার  কারণে এসব রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগির সংখ্যা আটশর অধিক।  চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে  শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগীর অধিক ভর্তি রয়েছে। এরমধ্যে ডায়রিয়ায় ভর্তির শিশুর সংখ্যা  ৫০ জন। ঠান্ডা কাশি জ্বর নিউমোনিয়া শিশু ভর্তি আছে ৬০ জন।  শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত মাত্র দুজন স্টাফ নার্সকে শতাধিক রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গত সাত দিনে ভর্তি হয়েছে ৮ শতাধিক এর অধিক । এর মধ্যে নিউমোনিয়া জ্বর কাশি এবং ঠান্ডা জনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর  ৫৪ জন, ২ ডিসেম্বরে ৪৬ জন,৩ ডিসেম্বর ৫৫ জন ৬ ডিসেম্বর ৫২ জন ৫ ডিসেম্বর ৬০ জন ৬ ডিসেম্বর ৬৩ জন এবং ৭ ডিসেম্বর ৬৭ জন। শিশু ওয়ার্ড এর মধ্যে এদিকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গত এক সপ্তাহে ভর্তি শিশুর সংখ্যা ১ ডিসেম্বরে ২৯ জন, ২ ডিসেম্বর ৩৫ জন, ৩ ডিসেম্বর ২৯ জন, ৪ ডিসেম্বর ৩৬ জন,  ৫ ডিসেম্বর ৩০ জন, ৬ ডিসেম্বর, ২৪ জন এবং ৭ ডিসেম্বর ১৮ জন। নিউমোনিয়া নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আলমডাঙ্গা উপজেলা গৌরী হাদ গ্রামের কোহিনুর বেগম বলেন, আমার দুই মাসের শিশু নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে গত পরশু দিন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। শিশু ওয়ার্ডে বেড না পাওয়ায় ফ্লোরে শিশুকে নিয়ে আছি। কিছু করার নেই, রোগীর যে পরিমাণ চাপ তাতে বেড পাবো কিভাবে। এখানে নিয়মিত ডাক্তাররা আসে। সেই সাথে সিস্টার রাও নিয়মিত আমার সন্তানকে দেখাশোনা করছে। আমি তাদের সেবাই খুবই সন্তুষ্ট।  একইভাবে ঠান্ডায়,নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের দিননাথপুর গ্রামের তিন বছর বয়সী আব্দুল্লাহ বাবা  আব্দুর রহমান বলেন,আমি আমার সন্তানকে নিয়ে গত তিন দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। যখন ভর্তি হয় তখন সন্তানের অবস্থা ভালো ছিল না আল্লাহর মেহেরবানীতে এখন অনেক ভালো। বেড না পেয়ে ফ্লোরে আছি, অধিক রোগীর চাপ, আমি নিয়মিত সেবা পাচ্ছি। একই অবস্থা  হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। নতুন এই ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে অনেক শিশু।  প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় কোন না কোন শিশু ভর্তি হচ্ছে।  ঠান্ডায় ডায়রিয়াজনিত কারণে শিশুদের চিকিৎসা দিতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত নার্স  সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে । ডাইরিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র  স্টাফ নার্স বলেন, যেখানে দুইটি ষ্টাফ নার্স থাকার কথা সেখানে শুধু আছি আমি একা। আমার একটু কষ্ট হচ্ছে। আমার সাথে যারা জুনিয়ার নার্স আছে, তারা আমাকে অনেক সহযোগিতা করছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। ডাইরি ওয়ার্ডে রোগীদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়,আবহাওয়া  পরিবর্তনের জন্য বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগছে যার কারনে ডায়রিয়া সহ অন্যান্য রোগ হচ্ছে, এখানে সীমিত বেড রয়েছে। তাই ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) মাহবুবুর রহমান মিলন মুঠোফোনে দৈনিক মাথাভাঙ্গা কে জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের বহির্বিভাগে প্রায় ২৫০ রোগী দেখতে হচ্ছে প্রতিদিনই।  আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে বাঁচ্চাদের ঠান্ডা-জ্বর, সর্দি-কাঁশি, ব্রঙ্কোলাইটিস, নিউমোনিয়া,এজমা, ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ হচ্ছে । রোগীর চাপে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, বাঁচ্চার মায়েদের আমার পরামর্শ থাকবে, বাঁচ্চার ছয় মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ান। ইপিআই টিকা দিন। বাচ্চার হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।  গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। রাতে একেবারেই ফ্যান চালানো যাবে না। বাচ্চাদেরকে এই মুহূর্তে বাইরে বের কম করতে হবে । কোনো রকম ডায়রিয়া,  জ্বর-সর্দি, কাঁশি ইত্যাদি দেখা দিলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ে যেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ সেবন করা যাবে না।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন,  ‘আমাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বর্তমানে গত সাত দিনে প্রায় ১১ শত রুগী ভর্তি আছে। এদের মধ্যে শিশু রোগীর  বেশি পরিমাণে ভর্তি হয়েছে । শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ১১০ জন রোগীর ভর্তি আছে। এখন আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। এর সাথে সাথে আমরা জ্বর, ঠান্ডা, কাঁশি,ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত বেশি পরিমাণে শিশু রোগী পাচ্ছি। আমাদের বর্তমানে দুজন শিশু কনসালটেন্ট আছে। তারা নিয়মিত শিশু ওয়ার্ডে সকাল-রাতে পরিদর্শন করছেন। ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ঠিকমতো দেখভাল করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, বহির্বিভাগেও প্রতিদিন প্রায়  ২৫০ এর উপরে  শিশুর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক মাস থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়সে শিশুদেরকে চিকিৎসা নিতে আসতে  বেশি দেখা যাচ্ছে। আমার পরামর্শ হলো আপনারা আপনাদের শিশুদেরকে এই আবহাওয়া পরিবর্তনে খুবই সতর্কতার সাথে রাখবেন। 

About somoyer kagoj

Check Also

বাংলাদেশের মধ্যে “মেটলাইফ মোমিন এজেন্সি কুষ্টিয়া” প্রথম স্থান অর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের মধ্যে মেটলাইফ মোমিন এজেন্সি কুষ্টিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *